নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপণী এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো: তৌহিদ বিন-হাসান। গত ২১ জুন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) ঢাকা আয়োজিত ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন করা হয়। টানা তিনদিনের প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী দিনে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আবদুল ওয়াদুদ। এছাড়া জেলা প্রশাসন কার্যালয়েন অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। এ প্রশিক্ষণে জেলার ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরগণ অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের আরও সক্ষম করে তুলবে। সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন- এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আপনারা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাবেন। বিশেষ করে আপনারা অফিস ব্যবস্থাপনা, নথি সংরক্ষণ, দাপ্তরিক যোগাযোগ, বাজেট প্রণয়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা, হিসাবরক্ষণ এবং সরকারি বিধি-বিধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অর্জিত এই জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে আপনারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করে তুলবেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর। আপনারা এই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন এবং সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপপরিচালক বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে তার প্রশাসনিক কার্যক্রম কতটা সুশৃঙ্খল এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকর তার ওপর। এ প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের সময় বৃদ্ধির আহব্বান করেন। তবে স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষনার্থীরা যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তার জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
