চুক্তির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৭৬ ডলার

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও পরবর্তী কূটনৈতিক সমঝোতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক ওঠানামা করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার। এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হলে সরবরাহ-ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দাম দ্রুত বাড়তে থাকে এবং সর্বোচ্চ ১২৬ ডলার পর্যন্ত ওঠে। পরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে এবং দাম নেমে আসে প্রায় ৭৬ ডলারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত তেলবাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। ইরানের জলসীমা ও সম্ভাব্য রপ্তানি-চ্যানেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতেই ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই দ্রুত বেড়ে যায়। একপর্যায়ে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয়ে।

রয়টার্স-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বা সম্ভাব্য শান্তি-সংবাদও তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। পরবর্তী সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে আসে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৬৬ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) নেমে যায় ৭৫.৮১ ডলারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম ৭২ ডলার থেকে ১২৬ ডলার পর্যন্ত ওঠা এবং পরে ৭৬ ডলারে নেমে আসা—এই বড় ব্যবধানই প্রমাণ করে যে ভূরাজনৈতিক সংঘাত বিশ্ববাজারকে কতটা অস্থিতিশীল করে তোলে। এর ফলে শুধু জ্বালানি তেল নয়, পরিবহন খরচ, ভাড়া, খাদ্যপণ্য, শিল্পপণ্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও চাপ পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, চুক্তির ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে চুক্তি কতটা টেকসই হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয় কি না, তার ওপর। ফলে তেলবাজারের দিক থেকে আগামী দিনগুলোও থাকবে সতর্ক নজরদারির মধ্যে।