ক্রীড়া ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শনার্থীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ যৌন আচরণ বিষয়ে তথ্যপত্রও সরবরাহ করা হবে।
বিশ্বকাপের ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি, জালিস্কো ও মনতেরেতে। ৩৯ দিনব্যাপী এই আয়োজন উপলক্ষে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো ৪০ থেকে ৫০ লাখ এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ আরও প্রায় ২০ লাখ কনডম বিতরণ করবে। বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, বার, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব ও বিনোদনকেন্দ্রে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হবে।
মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য পরিচালনা কমান্ডের সদস্য রোকসানা ত্রেহো বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু কনডম বিতরণ নয়; বরং নিরাপদ যৌন আচরণ, রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। তিনি জানান, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার তথ্যও দর্শনার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে সাময়িক যৌনসম্পর্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, ফলে এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। মেক্সিকো সিটি ও জালিস্কো দেশটির উচ্চ এইচআইভি সংক্রমণপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে থাকায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যৌথ আয়োজক কানাডাও ‘কনডমটু’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপ-থিমভিত্তিক বিশেষ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। এর আগে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রায় ১ কোটি এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৩৫ লাখ কনডম বিতরণ করা হয়েছিল।
