নিজ সংবাদ:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কথিত অনথিভুক্ত বাংলাদেশি মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের জেরে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হওয়া ‘শনাক্ত, বাদ ও ফেরত পাঠানো’ কর্মসূচির আওতায় হাজারো মানুষকে আটক, যাচাই এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার সীমান্তবর্তী হাকিমপুর এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। নতুন প্রশাসনিক অভিযানের পর তাঁরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছেন অথবা আটক হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তের দিকে ফিরে আসছেন। সাতক্ষীরার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম জানান, দুই বছর আগে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা ও জীবিকার সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন। কলকাতার উপকণ্ঠে রাজমিস্ত্রির কাজ করে পরিবার নিয়ে মোটামুটি স্বচ্ছন্দ জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু নতুন সরকারের অভিযানের পর স্থানীয়ভাবে হয়রানি, বাড়িওয়ালার চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক বাংলাদেশি। তাঁদের দাবি, উন্নত আয়ের আশায় তারা ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে কাজ, বাসস্থান এবং নিরাপত্তা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তার দাবি, হাকিমপুর সীমান্তচৌকিতে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থী আসছেন। তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, ইতোমধ্যে কয়েক হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও শত শত ব্যক্তি বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার বলছে, কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর আগে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আটক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা এবং সুষ্ঠু যাচাইয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রকৃত নাগরিকদেরও ভুলভাবে বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সীমান্তে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাদের ভবিষ্যৎ কোথায়। উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে যাওয়া অনেক মানুষের জন্য এই প্রত্যাবর্তন হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক এবং হতাশার নতুন অধ্যায়।
