আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইসরায়েলকে নতুন কৌশলগত সংকটে ফেলেছে। একদিকে তিনি বেসামরিক হতাহতের সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার সময় পুরো আবাসিক ভবন ধ্বংস করা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ সেখানে নিরীহ মানুষও বসবাস করে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের উচিত ছিল অনেক আগেই অভিযান শেষ করা। পরদিন তিনি আবার বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে, তবে সেই সঙ্গে বিচক্ষণতাও দেখাতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক লেবানন সংঘাতের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানে আগের মতো মার্কিন সমর্থন পাবে কি না, তা নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন ইসরায়েলের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—সামরিক চাপ অব্যাহত রেখে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সমর্থন হারানোর ঝুঁকি নেওয়া, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে অভিযান সীমিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ধরনের চাপ প্রয়োজন। তবে সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পরিবর্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইসরায়েলের উচিত হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করা। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনে ওয়াশিংটনের আপত্তি উপেক্ষা করেও ইসরায়েলকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
