নিজ সংবাদ:
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শতাংশভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের বাজারে স্বর্ণালঙ্কারের দাম আরও কমতে পারে এবং ক্রেতারা এর সুফল পাবেন।
আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন খাতে করছাড়, ভ্যাট অব্যাহতি এবং শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে স্বর্ণ বিক্রির ওপর শতাংশের ভিত্তিতে যে ভ্যাট আদায় করা হয়, তা পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট নির্ধারণের চিন্তা করছে সরকার। এ ব্যবস্থা চালু হলে প্রতি ভরি স্বর্ণের ওপর ভ্যাটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ব্যয় কমবে।
এরই মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামও কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ৬ জুন নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। ব্যবসায়ীদের আশা, বাজারে স্বর্ণের মূল্যহ্রাসের ধারার সঙ্গে বাজেটে ভ্যাট সুবিধা যুক্ত হলে স্বর্ণালঙ্কারের খুচরা দাম আরও কমবে এবং বাজারে লেনদেনও বৃদ্ধি পাবে।
