নিজ সংবাদ:
স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম তন্তু (সিনথেটিক ফাইবার) সহজলভ্য হওয়ায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সোমবার (১৫ জুন) সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের পাটপণ্য রফতানি এখনও মূলত সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চমূল্য সংযোজিত বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন ও রফতানি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক, কাঁচা পাটের মূল্য অস্থিরতা এবং পুরোনো প্রযুক্তিনির্ভর পাটকলগুলোও খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার না থাকায় রফতানিকারকদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
পাট খাতের এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচা পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রফতানি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং জোরদার, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার স্থাপন, রফতানিকারকদের নগদ প্রণোদনা প্রদান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও বিপণন সহায়তা।
মন্ত্রী আরও জানান, পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২০ সালে বন্ধ হওয়া বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হয়েছে। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপ পাট খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
