বিশ্বকাপে ফুটবলারদের জন্য কড়া নিয়ম

কী করা যাবে আর কী নয় ?

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক:

ফিফা বিশ্বকাপ শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কঠোর শৃঙ্খলা, আচরণবিধি এবং নানা বিধিনিষেধ। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) খেলোয়াড়দের কার্যক্রমের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখে।

গোল করার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ হলেও জার্সি খুলে উদ্‌যাপন করলে সরাসরি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। একইভাবে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ বা দর্শকদের উসকানিমূলক আচরণও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মাঠে আংটি, চেইন, ব্রেসলেটসহ কোনো ধরনের গয়না পরার অনুমতি নেই। তবে চিকিৎসকের অনুমোদন সাপেক্ষে সুরক্ষামূলক ফেস মাস্ক, ব্যান্ডেজ বা গার্ড ব্যবহার করা যায়।

ম্যাচ চলাকালে রেফারির সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ নয়, তবে আক্রমণাত্মক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা গালিগালাজ করলে হলুদ কিংবা লাল কার্ড পেতে হতে পারে। একইভাবে ফাউলের ভান করা বা ডাইভ দিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে শাস্তি নিশ্চিত। বিশ্বকাপে দুটি আলাদা ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকতে হয়। আর লাল কার্ড দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ ছাড়তে হয়। গুরুতর অপরাধে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

ডোপবিরোধী নিয়মও অত্যন্ত কঠোর। ম্যাচ শেষে, অনুশীলনের সময় কিংবা টিম হোটেলেও যেকোনো সময় ডোপ টেস্ট করা হতে পারে। পরীক্ষায় অস্বীকৃতি বা কারচুপি করলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন খেলোয়াড়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকলেও বর্ণবাদী, রাজনৈতিক বা উসকানিমূলক পোস্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ফিফার অনুমতি ছাড়া অফিসিয়াল মিডিয়া কার্যক্রম এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

এদিকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বিনিময়, অনুমোদিত বর্ণবাদবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং ফিফা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক। শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও খেলাধুলার চেতনা বজায় রাখতেই এসব নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।