কৃষি ডেস্ক:
বোরো মৌসুম এলেই ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কৃষক তাইজুল ইসলামের সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং সময়মতো সেচ দিতে না পারার কারণে উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ত, তেমনি ফলনের ঝুঁকিও থাকত। তবে সেই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে।
ভালুকার ধীতপুর এলাকায় সুতিয়া নদীর পানি সৌরশক্তিচালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে অন্তত ৭০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। শুধু সেচ নয়, একই প্রকল্পের আওতায় সৌরচালিত ধান মাড়াই যন্ত্র, ড্রায়ার, ক্ষুদ্র হিমাগার এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিং সুবিধাও গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পকে কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি কার্যকর মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, আগে যেখানে সেচের খরচ কাঠাপ্রতি প্রায় ৮০০ টাকা লাগত, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৩০০ টাকায়।
স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ সেচযন্ত্র ডিজেলনির্ভর। এসব যন্ত্র চালাতে বছরে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল ব্যবহৃত হয়, যার জন্য ব্যয় হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের দামে।
বর্তমানে দেশে ৫ হাজারের বেশি সৌরচালিত সেচপাম্প থাকলেও তা মোট সেচকৃত জমির মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, সহজ ঋণ সুবিধা এবং জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা গেলে সৌর সেচের বিস্তার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিতে সৌরশক্তির ব্যবহার শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়; খাদ্যনিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাইজুল ইসলামের মতো কৃষকদের কাছে বিষয়টি সহজ—আগে যেখানে ডিজেলের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে কাজ করছে সূর্যের আলো।
