নিজ সংবাদ:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে হতাশাজনক পরিস্থিতি। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই। স্থানীয় ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত দামে চামড়া কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আকারভেদে গরুর চামড়া মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং ছাগলের চামড়া ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন ফুলবাড়ী পৌরশহরের নিমতলা মোড়ে চামড়া কেনাবেচার চিত্র ছিল হতাশাজনক। বিভিন্ন এলাকা থেকে এতিমখানা, মাদরাসা ও ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি করতে আসা লোকজন ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, চামড়ার দাম এত কম যে বিক্রি করাও অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক বিক্রেতা ছাগলের চামড়া বিক্রি না করে ছোট যমুনা নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী ঢাকার বাইরে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে একটি মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে সেই দামের ধারেকাছেও নেই বাজার।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকরা সরকারি দরে চামড়া কিনছেন না। লবণের দাম, পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারাও বেশি দামে কিনতে পারছেন না। ব্যবসায়ী কোরবান আলীর ভাষ্য, ট্যানারিগুলো ছাগলের চামড়া নিতে অনাগ্রহী হওয়ায় অনেক চামড়া নষ্ট হচ্ছে।
চামড়ার এই মূল্য বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো। কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ তাদের পরিচালনার অন্যতম প্রধান উৎস হলেও বছরের পর বছর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। ফলে চামড়া খাতের দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
