বড় ছাগলের ‘টাইগার-বাহাদুর’ নাম, কিন্তু বিক্রিতে ম্লান মুখ খামারিদের

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

 

 

হাসানুজ্জামান রাজীব \ কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার আলাউদ্দিননগর পশুহাটে বড় আকারের ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। সারা বছর যত্ন করে লালন-পালন করা ‘টাইগার’, ‘বাহাদুর’, ‘কালু’, ‘মেজো কর্তা’, ‘সেজো কর্তা’, ‘ছোট কর্তা’র মতো আকর্ষণীয় নামের বিশাল ছাগলগুলো এবার প্রত্যাশিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। ফলে খামারির মুখে হাসি নেই, বরং উদ্বেগ বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে) সরেজমিনে আলাউদ্দিন নগর পশুহাটে গিয়ে দেখা যায় এসব চিত্র। হাটে আসা এক খামারি জানান, তার ‘টাইগার’ নামের ছাগলটির ওজন ১৩৪ কেজি। ডোরাকাটা লোমের জন্যই এমন নাম। আরেকজন তিনটি ছাগল এনেছেন—‘ মেজো কর্তা’, ‘সেজো কর্তা’ ও ‘ছোট কর্তা’। গত বছর যেসব ছাগল ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তার দাম অনেক কম বলে অভিযোগ করেন তিনি। ১০৭ কেজি ওজনের এক ছাগলের মালিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাইলেও ক্রেতারা ৯০-৯৫ হাজারের বেশি দিতে রাজি নন। খামারিরা বলছেন, বড় ছাগলের চাহিদা কম। ২০-৩০ হাজার টাকার মাঝারি ছাগলেই ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে বড় ছাগল বিক্রি না হলে খাবার ও পরিচর্যার অতিরিক্ত খরচে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক প্রান্তিক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “এত পরিশ্রম করে ছাগল বড় করেছি, কিন্তু দাম পাচ্ছি না। গত বছর বাজার ভালো ছিল, এবার ক্রেতাই কম।” তবে হাট পরিচালনা কমিটি আশাবাদী। পরিচালক হামিনুর রহমান জানান, হাটে ৩ হাজারের বেশি পশু এসেছে এবং বেচাকেনা ভালোই চলছে। ঈদের আরও কিছুদিন বাকি থাকায় বড় ছাগলের ক্রেতা বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্তকরণের ব্যবস্থাও আছে। অন্যদিকে, ছাগলের বাজার মন্দা হলেও গরুর হাটে জমজমাট ভাব। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপারীরা আসায় গরু বিক্রি বেড়েছে এবং খামারিরা এবার ভালো লাভের আশা করছেন।