আলাউদ্দিন নগর পশুহাটে ঈদের বেচাকেনা চরম,  তবে দাম কমের অভিযোগ বিক্রেতাদের

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

 

হাসানুজ্জামান রাজীব \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী আলাউদ্দিন নগর পশুহাটে ঈদুল আজহার কেনাবেচা জমে উঠেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুষ্টিয়া-ঢাকা মহাসড়ক ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে খামারি ও ব্যাপারিদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা গরু-ছাগলে হাট সরগরম। মেহগনি ও বাঁশবাগানের ছায়ায় আরামদায়ক পরিবেশে বড়-মোটা তাজা গরুর আধিক্য দেখা যাচ্ছে। খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন আমার গরুর দাম চাইছি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দাম হয়েছে। কিন্তু হাটে এনে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাম হচ্ছে। তবুও আমি আশাবাদী, এই হাটে না হলেও ঈদের আগে আরও হাট আছে, সেই হাটে বিক্রি করব “। ছাগলের ব্যাপারী সাইদুল বলেন, “আমি আমার ছাগলটি ২৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। কিন্ত ছাগলটি এখন ২২ হাজার টাকা দাম হচ্ছে। বাজারের পরিস্থিতি ভালো না। পশুর আমদানি অনেক, কিন্তু ক্রেতা কম”। ছাগল বিক্রেতা আলমও একই রকম হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার ২ টি ছাগলের ওজন আছে ৪৫ কেজি। ছাগলের মূল্য হওয়া উচিৎ ৫০ হাজার, কিন্তু দাম হচ্ছে ৩৫ হাজার”। গরুর বেচাকেনা তুলনামূলক ভালো চললেও ছাগলের ক্ষেত্রে দাম কম। খামারিরা জানান, এবার পশুর খাবার ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা অবশ্য দরদাম করে পছন্দের পশু কিনছেন। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে গরু কিনতে আসা সুইট জানান, “কালো অথবা লাল রংয়ের গরু কিনবো। হাট ঘুরে দেখে সাধ্যের মধ্যে গরু কিনবো”। আরেক ছাগল ক্রেতা জয়নাল আবেদীন মন্টু বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী হাট কর্তৃপক্ষ খাজনা নিচ্ছে। তবে ঈদ উপলক্ষ্যে একটু বেশি নেয়। তবে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য হাটের তুলনায় এই হাটটি ভালো। এখানে সব ধরণের ছাগলই পাওয়া যাচ্ছে”। হাট কর্তৃপক্ষ খাজনা আদায় করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছে। নগদ লেনদেনের পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্টের সুবিধাও রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বেচাকেনা আরও বেড়ে হাটে ফিরবে কোটি টাকার লেনদেন।