জমে উঠেছে মিরপুর পৌর পশুর হাট

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

 

হাসানুজ্জামান রাজীব \ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই হাটে বাড়তে শুরু করেছে পশুর সরবরাহ ও ক্রেতাদের ভিড়। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করেও প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাটে দেখা যাচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে আসছেন এই হাটে। গরমের কষ্ট থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কুষ্টিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই পশুর বাজার। হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের গরু, ছাগল ও ভেড়ায় ভরে উঠেছে পুরো বাজার। বিশেষ করে তোতাপুরি, রামপুরি, পাটি ও খাসি জাতের ছাগলের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া কাশ্মীরি, গাড়ল, ক্রস দুম্বা ও পাটা জাতের ভেড়ারও রয়েছে ব্যাপক সরবরাহ। শুধু ছাগল বা ভেড়াই নয়, দেশি গরুর পাশাপাশি বাটিক্রস, ফ্রিজিয়ান ও সাহেবয়াল ক্রস জাতের গরুর প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন সাইজ ও দামের পশু থাকায় ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কাতলামারী গ্রামের গরু বিক্রেতা সোনারুল ইসলাম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে তারা অনেক আশা নিয়ে পশু নিয়ে হাটে এসেছেন। গত কয়েক মাস ধরে খামারে লালন-পালন করা গরুগুলো এখন বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “গরম অনেক বেশি হলেও হাটে মানুষের উপস্থিতি ভালো। ক্রেতারা পশু দেখছেন, দরদাম করছেন। আশা করছি ঈদের আগের কয়েক দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।” ক্রেতারাও হাটের পরিবেশ ও পশুর সরবরাহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এই হাটে দেশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রস জাতের পশু সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে পশু পছন্দ করছেন। কেউ কেউ দাম তুলনামূলক বেশি বললেও অধিকাংশ ক্রেতা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম মোটামুটি সহনীয় রয়েছে। হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার অনলাইনে পশু কেনাবেচার কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও বেপারি ও ক্রেতাদের জন্য হাসিলে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। ছাগলের জন্য ৫০ টাকা এবং সব সাইজের গরুর জন্য ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন। তীব্র গরমের কারণে পশু ও মানুষের কষ্ট কিছুটা বাড়লেও হাটে কমেনি মানুষের উৎসাহ। খামারিরা পশুর যত্ন নিতে পানি ও খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করছেন। অন্যদিকে ক্রেতারাও সকাল কিংবা বিকেলের দিকে বেশি ভিড় করছেন, যাতে গরম কিছুটা কম থাকে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌর পশুর হাট। শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ঈদের আনন্দকে ঘিরে এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পুরো পশুর হাট।