পাকিস্তানে নারী মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচের যাবজ্জীবন

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের একটি বিক্ষোভের সময় আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) তাকে এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মাহরাং বেলুচ বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) নেত্রী। একই মামলায় তার সহকর্মী সমাজকর্মী সিবগাতুল্লাহকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালে গোয়াদর বন্দরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে মাহরাং ও সিবগাতুল্লাহ উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পর বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও পাথর নিয়ে আধাসামরিক বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালান। ওই ঘটনায় ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য শাব্বির আহমেদ নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে মাহরাং বেলুচ ও তার সহকর্মী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের একটি প্রচেষ্টা। বিচার প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ জানিয়ে তারা আদালতের কার্যক্রমও বর্জন করেন। আদালত রায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের উত্তরাধিকারীদের ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই রায়ের সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান। সংস্থাটি বলেছে, ভিন্নমত প্রকাশ ও মৌলিক অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখার প্রবণতা উদ্বেগজনক। মাহরাং বেলুচ ২০২৪ সালে বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় ছিলেন। ২০০৯ সালে তার বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর মানবাধিকার আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। তার সংগঠন বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।