নিজ সংবাদ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ এক দশক পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের খসড়া প্রস্তুত করেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, খসড়া চার্জশিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইনি মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির প্রযুক্তিগত ও আন্তর্জাতিক জটিলতার কারণে তদন্তে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তদন্তে এফবিআইসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন, বিদেশে পাঠানো মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স (এমএলএ) সংক্রান্ত তথ্য এবং ডিজিটাল ফরেনসিক উপাত্ত যাচাই করা হয়েছে।
তবে তদন্তের শেষ পর্যায়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে রয়েছে। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট হার্ডডিস্কের রহস্য, ডিজিটাল আলামতের নির্ভরযোগ্যতা এবং কোনো ‘ইনসাইডার’ বা অভ্যন্তরীণ সহযোগী জড়িত ছিল কিনা— এসব বিষয়ে এখনও জনমনে কৌতূহল রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা, যিনি ঘটনার পর প্রাথমিক প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে যুক্ত ছিলেন, দাবি করেছেন যে তদন্ত চলাকালে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তিনি ডিজিটাল আলামতের ‘চেইন অব কাস্টডি’ বা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার বিচার শুধু দায় নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিরও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে। এক দশক আগে আলোড়ন তোলা এই রিজার্ভ চুরি মামলার চূড়ান্ত সত্য এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।
