বাজেট প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়ন ও রোডম্যাপ দাবি

নবায়নযোগ্য জ্বালানি

বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত কর ও শুল্ক প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং খাতটির উন্নয়নে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা: টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মতামত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত প্রণোদনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

মূল প্রবন্ধে জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম জানান, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ২.৩ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৪ শতাংশ। তিনি বলেন, সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও লিথিয়াম ব্যাটারির আমদানিতে কর-শুল্ক ছাড় কার্যকর হলে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থা এবং শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গৃহস্থালি পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনা সহজলভ্য করারও আহ্বান জানান তারা।