কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৭৮ বাংলাদেশি

চার দিনে দেশে ফিরেছেন ২২১ জন

বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

ভালো চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে সাইবার প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়া আরও ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে গত চার দিনে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হয়ে মোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। আগের দিনের মতো এবারও ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ কাজে সহযোগিতা করেছে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের ভয়াবহ এক রূপ। বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

তিনি জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ২২১ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির আশ্বাস দিয়ে দালাল তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তিনি কোনো প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বরং তাকে একটি স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন চালানো হতো, এমনকি অনেককে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন কর্মী কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে তাদের অনেকেই প্রতিশ্রুত চাকরি না পেয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, ভুয়া ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার কর্মীসহ বিভিন্ন পদের আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত করা হয়। এ কারণে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।