আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ১৩১ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে তার মরদেহ ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
ইসলামি রীতি অনুযায়ী মরদেহ দ্রুত দাফনের বিধান থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যাপক জনসমাগমের আশঙ্কায় শেষকৃত্য স্থগিত করতে বাধ্য হয় ইরানি কর্তৃপক্ষ। হামলার পর তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলতে থাকায় বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়নি। জুনে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে প্রস্তুতি শুরু হয়।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও শেষকৃত্যে প্রকাশ্যে অংশ নেননি বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী হুড়োহুড়ির পুনরাবৃত্তি এড়াতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইসলামি শরিয়তে রাসায়নিক দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণ নিষিদ্ধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ কেবল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হিমাগারে মরদেহ সংরক্ষণ করে। শিয়া ফিকহ অনুযায়ী যুদ্ধাবস্থার মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং হিমায়িত সংরক্ষণ বৈধ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) খামেনি ও তার নিহত স্বজনদের কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে এক সপ্তাহব্যাপী শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মধ্য দিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

