শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক স্টান্ট

মঙ্গলবার, জুলা ১৪, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে তার এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ এবং কর্মীদের উজ্জীবিত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হবেন। এর আগে এনডিটিভিকেও দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একই ধরনের ইঙ্গিত দেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত যাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ও তিনি দেশে ফেরার কথা বলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। তার ভাষায়, “কোন ডিসেম্বরে ফিরবেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। অতীতেও তিনি বহুবার ফেরার কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাই আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিগুলো আরও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আওয়ামী লীগের আগের মতো সমর্থন নেই এবং দলটির অনেক নেতা বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলামও শেখ হাসিনার ঘোষণাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এটি মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করার চেষ্টা। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, আর সেই ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়নের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্ব বহন করছে।