নিজ সংবাদ:
হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আগামী রবিবার (৮ মার্চ ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি হবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে মর্মে মুলতবি করেছিলেন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। প্রধান বিচারপতি তখন মন্তব্য করেছিলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীতে যদি পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তাহলে একবারেই পুরোটা বাতিল করা সম্ভব।”
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন না হওয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছিল বলে মত প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করে। ৫৪টি ধারা বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ সংশোধনী বাতিল না করে বাকি বিধানগুলো পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দেয়। ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) ধারাও বাতিল করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় ১৩৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।
৩ নভেম্বর আপিল দায়ের করেন রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া। ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আপিলের অনুমোদন দেন। রবিবারের শুনানি এই আপিলের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।