নিজ সংবাদ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে বা এর বিপরীতে কোনো নতুন রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানো সম্ভব নয়। একাত্তরের ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি করার চেষ্টা প্রকারান্তরে ইতিহাসকেই অস্বীকার করার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, “একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি করার চেষ্টা ইতিহাসকে অস্বীকার করা। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানো যায় না।”
তিনি আরও লেখেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করতে হবে, বাকশাল নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন তোলা যাবে, রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব নিয়ে কথা বলতে হবে। একই সাথে ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকার করতে হবে।” ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই ভাষণ শুধু একজন নেতার বক্তব্য ছিল না। এটি ছিল রেসকোর্স ময়দানে জড়ো হওয়া লক্ষ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত উচ্চারণ।”
সর্বমিত্র চাকমা মনে করেন, একাত্তরের প্রতিটি বাঁক বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয়। তিনি লেখেন, “একাত্তরের প্রতিটি বাঁক আমাদের জন্য স্মরণের।” সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাকশাল নিপাত যাক, একাত্তর দালালের হাত থেকে মুক্তি পাক। রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, একাত্তর হোক গণমানুষের!”
তার এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বয়ান, ইতিহাসের ব্যাখ্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডাকসু সদস্যের এই অবস্থানকে অনেকে ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।