দেশে বিচারাধীন মামলা ৪০ লাখের বেশি, দ্রুত বিচার বড় চ্যালেঞ্জ: আইনমন্ত্রী

নিজ সংবাদ:

দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন বা অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে প্রায় তিন লাখ মামলা রয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে বিচারকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিচার ব্যবস্থায় বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সময় বিচারকরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে বিচারকদের ক্ষমতায়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে মামলার জট কমাতে সরকার প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মাধ্যমে মধ্যস্থতা বা মেডিয়েশন কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মামলা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা রোধে বিচারকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিচারকদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার পূর্ণ সহায়তা ও সুরক্ষা দেবে। অতীতে সৎ বিচারকদের ওপর অযৌক্তিক চাপের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রবণতা প্রতিহত করা জরুরি।