নিজ সংবাদ:
সিলেটে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেটে দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সকালে সিলেটে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই শাহজালালের মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।
এরপর তিনি সিলেটে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবা খাতের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ঢাকা-সিলেট রুটে ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাতায়াত সহজ হবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বাড়বে।
দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমাদেরই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে।” তিনি তরুণদের খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণ অর্জনের আহ্বান জানান।
পরে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বড় ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকদের শুনতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
সফরের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকড়া দিয়ে গরুর মাংস উপভোগ করেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যার পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, বন্যা সমস্যার সমাধান এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।