নারায়ণগঞ্জে এক হোল্ডিংয়ে শতাধিক ভোটার: ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজ সংবাদ:

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর এলাকার মোকরবা রোডে কয়েকটি বাড়ির ঠিকানায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই হোল্ডিংয়ে শতাধিক ভোটার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মোকরবা রোডের ৫৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি টিনসেড বাড়িতে মাত্র পাঁচটি পরিবার বসবাস করলেও সেখানে ভোটার তালিকাভুক্ত আছেন ১৮২ জন। একই সড়কের ৪৩/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি তিনতলা ভবনে ছয়টি পরিবার থাকলেও সেখানে ভোটার সংখ্যা ১৩৬। এছাড়া একই এলাকার আরও দুটি বাড়িতে মোট ১২০ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। চারটি হোল্ডিং মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৮ জন, যা ওই এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৩৩৬ জনের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি হোল্ডিংয়ে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ জনের বেশি ভোটার থাকার কথা নয়। বাড়ির পরিধি ও বসবাসকারীর সংখ্যার সঙ্গে এই হিসাবের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িটিতে এক পাশে সাবেক কাউন্সিলর অহিদুল ইসলাম ছক্কুর কার্যালয় এবং অন্য পাশে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছেন। ভাড়াটিয়াদের অনেকেই জানান, তারা এই ঠিকানায় ভোটার নন। একইভাবে পাশের ভবনের বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, তাদের প্রকৃত ভোটার ঠিকানা ভিন্ন স্থানে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এসব ভোটারের বেশিরভাগের কাগজপত্র যাচাই ও সত্যায়নে সাবেক কাউন্সিলর অহিদুল ইসলাম ছক্কুর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, অস্থায়ী ভাড়াটিয়াদের সহায়তার জন্য নিজের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন করিয়েছেন। তবে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এ ঘটনাকে ‘কারসাজি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট হোল্ডিংয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার নিবন্ধনের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরাও বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি হতে পারে। নাগরিক সংগঠনগুলোর মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।