পাটের সবুজ ঢেউয়ে দুলছে কুমারখালী, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

মিজানুর রহমান নয়ন \ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মাঠ এখন সবুজ পাটখেতের ঢেউয়ে ভরপুর। বাতাসে দোল খাচ্ছে তরতাজা পাটগাছ। শেষ মুহূর্তের নিড়ানি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। মাসখানেকের মধ্যেই শুরু হবে পাট কাটা। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো কৃষি প্রণোদনা এবং গত বছরের ভালো দামের প্রভাবে এ মৌসুমে পাটচাষে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় চাষিদের মধ্যে। পাট চাষী আনছার আলী বলেন, “পাটের জমি নিড়িয়ে ঘাস পরিষ্কার করছি।” আরেক চাষী আলম শেখ জানান, “প্রতি বিঘায় ২৬-২৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ভালো দাম পেলে লাভবান হবো, না হলে লোকসান। আমরা ন্যায্যমূল্য চাই।” পাট চাষী উকিল বিশ্বাস বলেন, “গত বছর চড়া দাম পেয়েছিলাম। এবার দাম কম, তাই ন্যায্য মূল্য পেলেই চলবে।” চাষী বদর উদ্দিন জানান, “এবারের আবহাওয়া পাটের জন্য আদর্শ। বৃষ্টির কারণে ফলন ভালো হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হতে পারে।” কৃষকরা আশা করছেন, বিঘাপ্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা খরচে ৮-১০ মণ ফলন হবে। ভালো দাম পেলে পাটচাষ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। কুমারখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ কাওছার আলী বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৮৭৮ হেক্টর। আমরা সেটি ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৯৬ হেক্টরে পাটের আবাদ করেছি। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন চলছে। ৬০০ কৃষককে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছি।” উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৮ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উৎপাদন খরচ কমানো, উপকরণের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এতে আগামীতে পাটের আবাদ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।