নিজ সংবাদ:
বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বিপুল অঙ্কের বকেয়া এবং অতীতের বিতর্কিত চুক্তিগুলো নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা বিদ্যুৎকেন্দ্র সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও আইনি জটিলতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে এবং অনুকূল মতামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো করেছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে থাকুক বা না থাকুক, বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছেন। তার ভাষায়, এসব চুক্তিতে সরকারের স্বার্থের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া তৈরি হয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন অলস থাকলেও সরকারকে তাদের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অপচয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অপসারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প এবং ডিপিডিসির আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
