নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুষ্টিয়ার এসবি সুপার ডিলাক্সের বাস ডুবলো পদ্মায়

ঘটেনি হতাহতের ঘটনা; তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ফেরিতে ওঠার আগে বিআইডব্লিউটিসির নিরাপত্তা বিধান অনুযায়ী বাসের সব যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সূত্রে জানা যায়, বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য ৭ নম্বর পন্টুন এলাকায় প্রবেশ করার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সংযোগকারী র‌্যাম্প ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসে চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজার ছিলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের জীবিত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে ডুব যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, “বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি”। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিম এনডিসিকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির একজন করে প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে থাকবেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জাকির হোসেন সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুনে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার মাত্র দুই মাসের মাথায় একই ধরনের আরেকটি বাস ডুবির ঘটনায় ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পন্টুনে শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।