তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই বাজার ভরে ওঠে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা রসালো মৌসুমি ফলে। ‘মধুমাস’ নামে পরিচিত এই সময়টিতে সাধারণত ফলের স্বাদ উপভোগে মেতে ওঠেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে এবারের মধুমাসে তীব্র তাপদাহ ও ফলের উচ্চমূল্য অনেকের জন্য সেই আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত ফলের সরবরাহ থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ফল কিনতে পারছেন না।

ফল ক্রেতা আব্দুস সামাদ বলেন, “মধুমাসের ফল ধনী-গরিব সবাই যেন খেতে পারে, সে জন্য এ সময় ফলের দাম কিছুটা কম থাকা উচিত। দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের মানুষ এসব ফল কিনে খেতে পারে না।” ফল ক্রেতা ও সাংবাদিক সাজ্জাদ রানা বলেন, “ফলের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত সব শ্রেণির মানুষের কাছে ফল সহজলভ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া।” অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। লিচু বিক্রেতা আমিরুল জানান, “সার, কীটনাশক ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে। তাই কম দামে বিক্রি করা কঠিন।” আরেক বিক্রেতা সত্তর বলেন, “বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনেক লিচু নষ্ট হয়েছে। ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।” এদিকে তীব্র গরমে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, এ সময়ে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান এবং মৌসুমি ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. খাইরুল ইসলাম শিমন বলেন, “মৌসুমি ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই সবারই নিয়মিত ফল খাওয়া উচিত।” মধুমাসে রসালো ফলের স্বাদ উপভোগের কথা থাকলেও চড়া দাম ও তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। তাদের প্রত্যাশা, ফলের দাম সহনীয় পর্যায়ে এলে মধুমাসের প্রকৃত আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে যাবে।
