নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণের উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কানাবিল মোড়স্থ নিকেতনে জেলা প্রশাসন এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও কুষ্টিয়া গ্রাম আদালত এভিসিবি-৩ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন। প্রশিক্ষক ছিলেন কুষ্টিয়া সমাজসেবার উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) তারিক হাসান, উপজেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী তৈমুর হায়াতী, আরিফুল ইসলাম, মাজেদা খাতুন, মোশাররফ হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম। এতে তিনটি ব্যাচে কুষ্টিয়া জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের অংশ গ্রহণে আবাসিকভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের ১ম ও ২য় ব্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। গত ৩ থেকে ৪ জুন ১ম ব্যাচে কুষ্টিয়া সদর ও কুমারখালি, ৬ ও ৭ জুন দৌলতপুর ও ভেড়ামারা এবং ৮ ও ৯জুন ৩য় ব্যাচে মিরপুর ও খোকসা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরগন অংশ নেয়। তবে যে সকল ইউপিতে হিসাব সহকারী নিযুক্ত রয়েছে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যতিরেখে হিসাব সহকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ৩য় ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিডিএলজি আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা ও অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পান। আপনাদের কাছে যারা আসবে তাদের সাথে আন্তরিকতার সাথে কথা বলবেন। জনগণ আপনাদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হবে সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত আইন, বিধিমালা, মামলা ব্যবস্থাপনা, শুনানি পরিচালনা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন বিষয়ে হালনাগাদ ধারণা লাভ করবেন। এডিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রাম আদালতকে জনগণের আস্থা ও ভরসার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সকলকে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালতের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে। এদিকে গ্রাম আদালত (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনটি ব্যাচে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সেবামুখী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশন, আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং জনমুখী করে তোলা। তিনি আরো বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত আইন, বিধিমালা, মামলা পরিচালনা, রায় বাস্তবায়ন এবং সেবা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে আরও সমৃদ্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ অধিকতর উপকৃত হবেন।
