নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কানাবিল মোড়স্থ নিকেতনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শেষ হয়। সমাপনী দিনে প্রশিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার, কুষ্টিয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল জব্বার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কুষ্টিয়া গ্রাম আদালত (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন। উপজেলা পর্যায়ের গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী আরিফুল ইসলাম, মাজেদা খাতুন, মোশাররফ হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এতে তিনটি ব্যাচে কুষ্টিয়া জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের অংশ গ্রহণে আবাসিক ভাবে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের ১ম ও ২য় ব্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। তবে তিনটি ব্যাচের প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম। গত ৩জুন থেকে তিনটি ব্যাচে ৯জুন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। ৬টি উপজেলা পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরগন অংশ নেয়। তবে যে সকল ইউপিতে হিসাব সহকারী নিযুক্ত রয়েছে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যতিরেখে হিসাব সহকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং জনগণের আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে অনেক বিরোধ প্রাথমিক পর্যায়েই সমাধান সম্ভব হয়, যা অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ইতিমধ্যে আমরা প্রতিটি থানায় নির্দেশনা দিয়েছি, ছোট খাটো অপরাধ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের গ্রাম আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। তবে প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য তখনই সফল হবে, যখন এর শিক্ষা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে। এদিকে গ্রাম আদালত (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনটি ব্যাচে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সেবামুখী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশন, আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো। আশাকরি এখানে যারা অংশ গ্রহণ করেছেন, তারা আগামী দিনে নথি ব্যবস্থাপনায় ভালো করবেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং জনমুখী করে তোলা। তিনি আরো বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত আইন, বিধিমালা, মামলা পরিচালনা, রায় বাস্তবায়ন এবং সেবা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে আরও সমৃদ্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ অধিকতর উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
