কুষ্টিয়ায় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ, বাস্তবে দূষণের ছড়াছড়ি

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

তরিকুল ইসলাম \ বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই দেশজুড়ে সেমিনার, র?্যালি ও বৃক্ষরোপণের আয়োজন দেখা যায়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারে মুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু দিবস পেরিয়ে গেলেই থেমে যায় সব উদ্যোগ। বাস্তবে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। কুষ্টিয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক বলেন, “দিবস তো মাত্র একদিন। কিন্তু আমাদের জন্য প্রতিদিনই পরিবেশ দিবস। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনা করি। তবে দূষণ রোধে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতায়ন এবং সকল স্টেকহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।” বাস্তব চিত্র অবশ্য ভিন্ন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা, নদী-খাল দখল, ইটভাটা ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া, প্লাস্টিক বর্জ্য ও শব্দদূষণে পরিবেশ হুমকির মুখে। কুষ্টিয়ার এক শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, “ধুলাবালিতে ভাত খাওয়া যায় না।” আমজাদ আলী জানান, মিলকারখানার ধোঁয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। টিপু অভিযোগ করেন, ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি বেড়েছে। নারী ভুক্তভোগী আনোয়ারা বলেন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। কৃষক খাইরুল ইসলাম জানান, ফসলের উৎপাদন কমে গেছে এবং টিনের চাল দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক এসএম কাদেরী শাকিল বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তরের সারাবছর কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়ে না।” কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসিবুশ শহিদ বলেন, “শুধু দপ্তর রেখে লাভ নেই যদি কার্যক্ষমতা না থাকে। রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ দরকার।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দিবসভিত্তিক আয়োজন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সারাবছর ধারাবাহিক তদারকি, জনসচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগ। পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া কঠিন হয়ে পড়বে।