তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত আলী পেশায় পাপড়, তাল, মালাই ও ডাব বিক্রেতা। তবে জীবিকার বাইরে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবিকতা ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাড়াদি ভাগার মাঠ এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে নিজ উদ্যোগে তিনি রোপণ করেছেন ৩৩০টি তালগাছ এবং ১২০টি খেজুর গাছ। শুধু গাছ লাগানো নয়, নিয়মিত পরিচর্যা করেও তিনি গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ফলে সড়কটি এখন সবুজ শ্যামলে ভরে উঠেছে। প্রখর রোদে পথচারীরা পাচ্ছেন স্বস্তির ছায়া। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র?্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লিয়াকত আলী জানান, “আমি ভেবেছিলাম তাল ও খেজুর গাছ লাগালে রাস্তা ভাঙা বন্ধ হবে, বজ্রপাত কমবে, মানুষ ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারবে। গাছ নষ্ট হলে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।” তিনি আরও বলেন, প্রথমে কিছু গাছ বিক্রির চিন্তা ছিল, কিন্তু এখন তা আর করতে চান না। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। পথচারী জাহিদ বলেন, “এই গাছগুলো বজ্রপাত নিরোধক।” কণিকা খাতুন বলেন, “এ কাজ আমাদের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে।” রিপন খন্দকারের মতে, “সবারই এমন কাজ করা উচিত।” বৃদ্ধ ইন্তাজ বলেন, “তালগাছ জীবন রক্ষাকারী।” কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এ উদ্যোগকে প্রশংসা করে বলেন, “জনগণকেও জীববৈচিত্র?্য রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। জেলা পরিষদ গাছ রক্ষায় সহযোগিতা করবে।” পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামও গাছের পরিচর্যায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। লিয়াকত আলীর মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগই আজকের জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।
