কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সিভিল সার্জন অফিসের সমন্বিত কার্যক্রম

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

 

আফসানা ইসলাম পুষ্প \ কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, কুষ্টিয়া পৌরসভা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি শুরু হয় এবং হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এতে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালি শেষে হাসপাতাল চত্বরে সমন্বিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের গ্রাম ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান হাসপাতাল চত্বরের ময়লা আবর্জনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গ্রিন সিটি, গ্রিন কুষ্টিয়া ও গ্রিন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছি। কিন্তু হাসপাতালের এই অবস্থা দেখে অত্যন্ত বিরক্ত। তত্ত্বাবধায়ককে বলা হয়েছে ডাস্টবিন স্থাপন করতে। সবাই যেন ময়লা ডাস্টবিনে ফেলেন। আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ময়লা জমলে মশার লার্ভা তৈরি হবে, তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।” কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “জনসাধারণের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। রাস্তায় টিস্যু ফেলা, ময়লা ছড়ানো—এসব অভ্যাস পরিহার করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে শুধু ডেঙ্গু নয়, অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।” হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মন্নান বলেন, “আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত রাখবো।” অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কুষ্টিয়া পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা: ইকবাল হাসান, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ড্রেন এবং জনসমাগমস্থলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ সময় এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।