কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ভ্যানচালক তাজেম আলী হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমারখালী থানামোড়ে ‘বুজরুখ বাঁখই এলাকাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এমন অভিযোগ করেন স্বজনরা। এছাড়াও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত তাজেম আলীর মা সাহিদা খাতুন, মামাতো ভাই আবুল কালাম আজাদ, চাচাতো ভাই বিপুল হোসেন ও নাজমুল আলম প্রমূখ। মানববন্ধনকারীরা জানায়, নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুখ বাঁখই গ্রামের আবুল কাশেমের ভ্যানচালক ছেলে তাজেম আলীর সাবেক স্ত্রী শান্তার সাথে প্রতিবেশি মোক্তারের ছেলে মিজারের পরকিয়া প্রেম নিয়ে বিরোধ চলচিল। বিরোধের জেরে ২৭ মার্চ রাতে বুজরুখ বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথের সামনে মিরাজ, রশিদুল, আরমিন আকাশ, রবিউল, ফাহিম, মিঠুসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এঘটনায় ২৮ মার্চ থানায় মিরাজ হোসেনকে (৩০) আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় ভাই হাসেম আলী। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ৪ – ৫ জনকে। মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে একই এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে আরমিন (২৫) ও প্রধান আসামি মিরাজের ভাই আব্দুর রহমান মিঠুকে (২১) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে ঘটনায় জড়িত রশিদুল, আকাশ, রবিউল, ফাহিম এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও অদৃশ্য কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করছেনা পুলিশ। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানান তারা। তাজেম আলীর চাচাতো ভাই বিপুল হোসেন বলেন, পরকিয়া প্রেমের জেরে তাজেমকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে প্রভাবশালী মিরাজ ও তাঁর স্বজনরা। ঘটনার প্রধান আসামিকে আজও গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ। ঘটনায় জড়িত আকাশ, রবিউল, ফাহিম, রশিদুলরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছেন। তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে। আরেক চাচাতো ভাই নাজমুল আলম বলেন, হাত, পাঁ, ঘাঁড়ের রগ কেটে ও পরিকল্পিতভাবে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাজেমকে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তাঁর। তাজেমের মা সাহিদা খাতুন বলেন, ছেলের বউ নিয়ে মিরাজের সাথে ঝামেলা ছিল। মিরাজরা সবাই মিলে ছেলেকে খুব কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছে। যাঁরা যাঁরা মারেছে। তাঁদের ফাঁসি চাই। তাছাড়াও আর কোনো চাওয়া নাই। অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, তাজেম হত্যা একটি স্পর্শকাতর মামলা। অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হুট করে একজনের নাম বললেই তো তাকে গ্রেপ্তার করা যায়না। যাচাই- বাছাইয়ের একটি বিষয় থাকে বলে জানান ওসি।
