কুমারখালীতে প্রধান শিক্ষকের সিল- সই জাল করে নির্মাণ কাজের বিল তুললেন ঠিকাদার

প্রকৌশলী ও শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশ

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ ?প্রধান শিক্ষকের সিল- সই জালিয়াতি করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির মাধ্যমে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১১২ নম্বর চর আগ্রাকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ কাজের বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই প্রধান শিক্ষক। তবে সেই অভিযোগ পত্রটি তুলে নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত মানসিকভাবে হেনস্থা ও চাপ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদরের বিরুদ্ধে। গতকার বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বিদ্যালয়ে সরেজমিন গেলে এ তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রেহেনা খাতুন। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা ও এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হকের যোগসাজশে প্রত্যয়ন জাল করে চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম। এ ঘটনায় ২১ মে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন প্রধান শিক্ষক। লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণের কাজ পায় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শরিফুল ইসলাম। তার মধ্যে চর আগ্রাকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজের বরাদ্দ ছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৯০০ টাকা। ?অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে নিম্নমানের সামগ্রী গিয়ে নির্মাণ শুরু করেন ঠিকাদার। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঠিকাদারের তর্কাতর্কি হয়। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও এলজিইডিকে জানানো হয়। পরে বিভিন্ন তালবাহানা করে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ করে প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুনকে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন ঠিকাদার। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ঠিকাকাদার প্রধান শিক্ষকের সিল ও সই জাল করে ২০২৫ সালের ২২ জুন চূড়ান্ত বিল এবং চলতি বছরের ৩ মার্চ জামানতের সমোদয় অর্থ তুলে নেন। সম্প্রতি বিষয়টি টের পেলে ২১ মে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন প্রধান শিক্ষক। জালিয়াতির প্রত্যয়নপত্রটি ইতিমধ্যে  দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার হাতে এসে পৌছেছে। তাতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের নাম রেহেনার পরিবর্তে রেহানা লেখা হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রাচীরের রঙ চটে গেছে। খসে পড়ছে বালু ও সিমেন্ট। অসামঞ্জস্য দেওয়ালের কাজ। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রেহেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘ ঠিকাদার শুরু থেকেই কাজে নানা অনিয়ম করেছে। একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কাজের মান ফেরাতে পারিনি। পরে কাজ শেষ না করেই প্রত্যয়নের চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে জরাজীর্ণভাবে কাজ শেষ করে। কাজের মান ভালো না হওয়ায় আমি প্রত্যয়ন দেইনি। কিন্তু আমার নাম ও স্বাক্ষর জাল করে ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে। বিষয়টি পরে জানতে পেরে বিচারের আশায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। ’ তিনি আরও বলেন,  প্রকৌশলী আর শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে এমন অনিয়ম হয়েছে। লিখিত অভিযোগপত্রটি প্রত্যাহারের জন্য ঠিকাদার স্কুল ও বাড়িতে বিরক্ত করছেন। মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছেন। আমি এর বিচার চাই। অভিযোগ স্বীকার করে ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘ঠিকঠাক কাজ করার পরও প্রধান শিক্ষক ঝামেলা তৈরি করেছিল। বাধ্য হয়ে প্রত্যয়ন তৈরি করে বিল তুলেছি। বর্তমান সমস্যাটি মিটানোর জন্য প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়েছিলাম।’ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা বলেন, ‘ কাজের মান সন্তোষজনক নয়। আবার প্রত্যায়নটিও জাল করেছে ঠিকাদার। এটি প্রকৌশলীর দেখার বিষয়। এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’ ?এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক। তবে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগটি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।