কুমারখালীর কিশোরীকে বিয়ে করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভাঙল চীনা যুবকের

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

হাসানুজ্জামান রাজিব \ সাত মাস আগে অনলাইনে একটি মিউজিক গ্রুপে পরিচয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে সুদূর চায়নার গানসু থেকে এম এ হাইশান (৩৯) নামের এক যুবক কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর পার সাঁওতা গ্রামে ছুটে এসেছেন। তবে স্কুল ছাত্রী (১৬) প্রেমিকা নাবালিকা। দেশের প্রচলিত আইনে বিয়ের বয়স হয়নি। তাই বিয়ে না করেই ফিরে গেলেন ওই চীনা যুবক।

স্থানীয় মেম্বর, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে প্রেমিকা ছাড়াই ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরআগে গতকাল বুধবার বিকেলে প্রেমিকার বাড়িতে বাড়িতে এসেছিলেন ওই চীনা যুবক। এ তথ্য নিশ্চিত করে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জু বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌছালে মেয়ে ও তার স্বজনরা তাকে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায় মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্ত বয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে ঝুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর পার সাঁওতা গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে গেছেন। আর চীনা যুবকের সঙ্গে অ্যাপসের মাধ্যমে কথা বলছেন স্থানীয় প্রতিনিধি, স্বজন ও পুলিশের সদস্যরা। আশপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসেন। একটি ভ্যানে করে চীনা যুবককে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় গ্রামের সত্তোর্ধ ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, প্রেমের টানে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চিন দেশ থেকে একজন চলে আইছে। তাঁর নাম ঠিকানা ধর্ম জানা নেই। এমন ঘটনা আগে কোনোদিন ঘটেনি। বিভিন্ন এলাকার লোকজন ছুটে আসতেছে দেখতে। প্রেমিকার মা বলেন, মেয়ের বয়স হয়নি। ভুল করে বিদেশের লোককে বাড়ি নিয়ে এসেছিল। সাধ্যমত আদর খেদমত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বর, পুলিশের সহযোগীতায় ছেলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিশোরী প্রেমিকা বলেন, একটি মিউজিক গ্রুপে সাত – আট মাস আগে পরিচয়। চীনা ভাষা বুঝিনে। তাঁর নাম পরিচয় জানিনা। তবে সে ( চীনা যুবক) মুসলিম। তেমন প্রেম ভালোবাসাও হয়নি। তবু তিনি ( চীনা যুবক) বিয়ের জন্যে চলে এসেছে। কিন্তু আমার বয়স না হওয়ায় বিয়ে হয়নি। ভবিষ্যতে ছেলেটি আবার ফিরে আসলে বিয়ে করব। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না চীনা যুবক এম এ হাইশান। তবে অ্যাপসের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমি চীনের গানসু থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে করতে পারছিনা। আমি এখন শুধু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দরে ফিরে যেতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিন মাসের সম্পর্ক। আমি চীনে ফিরে যাওয়ার পর আরও দেড়বছর সময় আছে। দেড় বছর পর আমি আবার ফিরে আমার প্রিয়তমার সাথে বিয়ে করব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, সম্পর্কের জেরে এক চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছিল বিয়ের জন্য। কিন্তু মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় যুবককে ভালোভাবে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।