গ্রাম আদালত আইন ও বিধি অনুযায়ী চলে বিধায় মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়

কুষ্টিয়ায় দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনকালে ডিসি তৌহিদ বিন- হাসান

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা রিসোর্স টিম (ইউআরটি) এর সদস্যবৃন্দ ১ দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়। গতকাল বুধবার (১০জুন) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ডিস্ট্রিক্ট রিসোর্স টিম (ডিআরটি) এর সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অফস্) ফয়সাল মাহমুদ, সিনিয়র সিভিল জজ তারিক হাসান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল জাব্বার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নুরে ই সফুরা ফেরদৌস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, কুষ্টিয়া গ্রাম আদালত (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন। অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাবৃন্দ। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, গ্রাম আদালত আইন ও বিধি অনুযায়ী চলে বিধায় মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। তিনি বলেন, জেলা আদালতে সাধারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যেখানে কমপক্ষে ১ বছর সময় লাগে গ্রাম আদালতে সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। সেজন্যে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর আস্থা তৈরি করা গেলে উচ্চ আদালতে ও থানায় মামলার জট কমবে। তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ন্যায় বিচার করা সওয়াবের কাজ সুতরাং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র নারী বিভিন্ন প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হবে এ কারণে গ্রাম আদালত সক্রিয় করতে ও জনসচেতনতা তৈরিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনকে ভূমিকা রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ছোট খাটো মামলা গুলো যদি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় এবং গ্রাম আদালত কে সক্রিয় করা যায় তাহলে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে জনগণকে আর থানা পর্যন্ত আসতে হবে না সে ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় বিষয়গুলোর দিকে পুলিশ গুরুত্ব দিতে পারবে। এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ বৃন্দকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও গ্রাম আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত মামলা গুলো থানায় গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া উপ-পরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম উপজেলা রিসোর্ট টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে আপনারা স্ব স্ব দপ্তরের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গ্রাম আদালতের সেবা ও সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করবেন এবং গ্রাম আদালত সক্রিয় করতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো বলেন, আমি আশা করছি উপজেলা রিসোর্স টিমের সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ ভালোভাবে গ্রহণ করবেন এবং গ্রাম আদালতের বিষয়টি সঠিকভাবে জেনে তারপর উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করবেন। এদিকে প্রশিক্ষণ কোর্সটি ভিডিও ডকুমেন্টরির ২০টি ভিডিও ক্লিপ এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য যে, ১০ ও ১১ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচে মোট ৩৬ জন অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।