তরিকুল ইসলাম \ গ্রীষ্মকালের শুরুতেই কুষ্টিয়া বাজারে ফ্যান, এয়ার কুলার, রিচার্জেবল ফ্যান, পানির বোতল, ছাতাসহ গরমে ব্যবহৃত পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এসব প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, কয়েক মাস আগে যে ফ্যান ১৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তাপদাহ শুরু হতেই একই ফ্যানের দাম বেড়ে ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা হয়েছে। ছাতা, পানির জার ও কুলারের দামও অনুরূপভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল রবিবার কুষ্টিয়া শহরের ফ্যানের দোকানগুলো ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। ফ্যান ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “গরম পড়তেই ফ্যানের দাম বেড়ে গেছে। দাম একটু কমলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো।” আরেক ক্রেতা আলফাজ হোসেন জানান, “আগে ১৮০০-১৯০০ টাকায় ফ্যান কিনতাম, এখন অনেক বেশি চাইছে।” শফিউল্লাহ বলেন, “সব ধরনের ফ্যানের দামই আগের চেয়ে বেশি।” ব্যবসায়ীরা অবশ্য দোষারোপ করছেন কোম্পানি ও পাইকারি বাজারের দিকে। ফ্যান বিক্রেতা রনি আহমেদ বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরম এলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। কোম্পানির নির্ধারিত আউটলেট থেকে কেনা উচিত।” আরিফ জানান, কাঁচামাল ও তামার তারের দাম বাড়ায় ফ্যানের দাম বেড়েছে। হাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকার পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মাসুম আলী বলেন, “তাপদাহের সুযোগে কেউ যদি অস্বাভাবিক দাম বাড়ায়, তাহলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযোগ শুনানি চালিয়ে যাচ্ছি।” সাধারণ মানুষের দাবি, গরমের সময় প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
