তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়ায় ‘গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সহযোগিতায় শহরের একটি ফুড পার্কে এই সংলাপ হয়। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান লাকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. সাইদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরে শুধু সংবাদ প্রকাশ করেন না, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়তে সরকারের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত মাঠপর্যায়ে মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি আনিস মন্ডল সাংবাদিকতার সঙ্গে মানবাধিকারকে গুলিয়ে ফেলার প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় ঘটে যাওয়া রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডসহ শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম আন্দোলনে ভূমিকা রাখলেও সংস্থাগুলোর তেমন কোনো কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়। মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগম সক্রিয়তার অভাব স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চোখের অপারেশনের কারণে রামিসা ঘটনায় পূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেননি। দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত বলেন, “গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে যেহেতু আপনারা কাজ করছেন, তাহলে মাঠ পর্যায়ে এই বিষয়ের সচেতনতা ছড়িয়ে দিন, এটাই আমাদের চাওয়া”। ডেইলি স্টারের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আনিস মন্ডল বলেন, “অনেক সাংবাদিক দেখি আজকাল পকেটে মানবাধিকার সংগঠনের কার্ড বা পরিচয় পত্র রাখে। এখন সাংবাদিকতার সাথে মানবাধিকার গুলিয়ে গেলে তো প্রকৃত সাংবাদিকরা বিপাকে পড়বে”। এনটিভি ডিজিটালের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি বিদ্যুৎ বলেন, “সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে হয়তো সমাজকে বদলানো সম্ভব”। প্রবীণ সাংবাদিক মুকুল খসরু বলেন, “আমরা চাই আপনাদের মতো সংগঠন আমাদের সাথে এসে দাঁড়াক”। নারী সাংবাদিক ওপেলিয়া কণি বলেন, “প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা ছাড়া মানবাধিকারকর্মী বা গণমাধ্যমকর্মী কেউই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে না”। সাংবাদিক এজে সুজন বলেন, “সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের জায়গা থেকে এগিয়ে এসে অনেকেই ভালো কাজ করে। কিন্তু যাদের নিয়ে আমরা কাজ করি, তাদের জন্য কোন ফিডব্যাক তো আমরা পাই না”। গণমাধ্যমকর্মী শামীম হাসান খান বলেন, “গণমাধ্যম শুধু কাগজে-কলমেই রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, তবে বাস্তবে এর কোন স্বীকৃতি নেই”। অনুষ্ঠানে এমএসএফের নাজনীন শবনম ও মুক্তি সংস্থার শেখ জায়েদুল হক মতিনসহ গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
