এম আর নয়ন \ কুষ্টিয়ার খোকসাতে হঠাৎ টর্নেডো ঝড়ে তিনটি গ্রামে কয়েক’শ ঘড়বাড়ি, গাছপালা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ যাবতীয় জিনিসপত্র ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। এছাড়াও গোপকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের শতবর্ষী বটগাছ উপড়ে ভেঙে গেছে বিদ্যালয়ের প্রাচীর। গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সন্তোষপুর, গোপকগ্রাম ২ ও গোপকগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে গেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানায়, তিনটার দিকে হঠাৎ আকাশে বিদ্যুত চমকাতে থাকে। এরপর শুরু হয় বাতাস ও বজ্রপাত। একপর্যায়ে প্রকট শব্দে প্রবলবেগ ঝড় শুরু হয়। প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিটের ঝড়ে ছোট – বড় অংশ গাছ উপড়ে পড়ে তিনটি গ্রামের কয়েক শত ঘরবাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনাদে ভোঙে তছনছ হয় যায়। বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে গোপকগ্রাম ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম।

গ্রামের অসংখ্য ছোটবড় গাছপালা উপড়ে গেছে। ভেঙে গেছে বসতঘর, রান্নাঘর, রাইচমিল, তাঁতযন্ত্র, বিদ্যালয়ের প্রাচীর। এলাকাবাসী গাছ কাটাকাটি করছে। তাদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। এসময় সত্তোর্ধ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৯৮৪ সালের পর এমন ঝড় আর দেখেনি। মূহুর্তেই সবকিছু ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কমবেশি সব বাড়িতেই ক্ষতি হয়েছে। সন্তোষপুর গ্রামের তাঁতি ফরিদ শেখ বলেন, ঝড়ে তাঁতঘরের ওপর বড় মেহগনি গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে একটি যান্ত্রিক তাঁত ও ৬টা বিম ভেঙে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকার যদি একটু সহযোগীতা করতো। তাহলে কিছুটা ক্ষতিপূরণ হতো। গোপকগ্রাম ২ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর মধু শেখ বলেন, নদী থেকে কালো ধোঁয়ার মতো বাতাস পাক মারতে মারতে আসে। এরপর ১০- ১৫ মিনিট বজ্রপাত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল ঝড়- বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় দেড় মিনিটের মধ্যেই দুইটা মেহগনি গাছ উপড়ে টিনের ঘরটি ভেঙে চুরমার হয়েছে। সেই সাথে ঘরে থাকা খাট, এলইডি টিভি ভেঙে গেছে। গোপকগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোরবান আলীর স্ত্রী চায়না খাতুন বলেন, স্বামী ভবঘুরে। দুইটি বাচ্চা আছে। ঝড়ে বসতঘর ও টয়লেট ভেঙে গেছে। এখন থাকব কনে? আমার তো সারার (মেরামত) করার টাকা নেই। সরকার যদি একটু দেখতনে। তয় বাঁচতাম। গোপকগ্রাম স্কুল পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে জাহেদ বলেন, ঝড়ে তছনছ তিন – চারটা গ্রামের ঘরবাড়ি। শতবছরের বেশী বটগাছ টিও উপড়ে গেছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষের। ঝড়ে তিনটি গ্রামে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন গোপকগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আলিম সরদার। তিনি বলেন, মূহুর্তেই কয়েক’শ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, গাছপালা উপড়ে গেছে, তাঁতের ক্ষতি হয়েছে। ইউএনও স্যারকে আর্থিক সাহায্যের জন্য জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঝড়ে কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা শোনা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে বরাদ্দ প্রাপ্ত সাপক্ষে সহযোগীতা করা হবে।
