নিজ সংবাদ \ দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে ও আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (কন্দ) ও পরবর্তীতে কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে দৌলতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রথম বারের মত ১০ জন কৃষকের মাঝে সরকারি উদ্যোগে প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১২ হেক্টর। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার বেলা ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের ‘উত্তর চর খলিশাকুন্ডি’ মাঠে পেঁয়াজ ক্ষেত পরিদর্শন করেন কৃষি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। মূলত সরকারের দেওয়া প্রণোদনার পেঁয়াজের মাঠ দেখভাল করা এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের নির্দেশনা ও উৎসাহ প্রদান এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মোঃ জামাল উদ্দীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, খামারবাড়ি, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভুঁইয়া, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো:ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেহেনা পারভীন, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার আলী আহমেদ ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ফারিহা তানজুম স্বর্ণা এবং খলিশাকুন্ডি ব্লকের উপসহকারি কৃষি অফিসার একরামুল হক ও ছিলিমপুর ব্লকের উপসহকারি কৃষি অফিসার উজ্জল আলী উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা প্রথমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের মাঠ ও প্রদর্শনী প্লটসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয়ভাবে উন্নত মানের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (কন্দ) ও বীজ উৎপাদন করা। কৃষকেরা যেন নিজেদের উৎপাদিত বীজ দিয়েই পরবর্তী সময়ে চাষাবাদ করতে পারেন এবং বাইরে থেকে বা বিদেশ থেকে যেন আর পেঁয়াজের বীজ সংগ্রহ করতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। মাঠ পরিদর্শনকালে বিপুল সংখ্যক পেঁয়াজ চাষী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক পরিচর্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কৌশলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া অতিরিক্ত পরিচালক( মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) কৃষিবিদ ড. মো. জামাল উদ্দীন উপস্থিত কৃষকদের পেঁয়াজ আমদানী নির্ভরতা কমাতে আরও অধিক পরিমানে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ প্রদান করে স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় কৃষকেরা সরকারের এই প্রণোদনা এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, এর ফলে দৌলতপুরে পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন হবে।
