চুয়াডাঙ্গায় অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা ও জরিমানা

অপারেশনের মাঝপথে চলে গেলেন চিকিৎসক

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি \ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে অস্ত্রোপচারের টেবিলে রোগী রেখে চিকিৎসকের চলে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম বেসরকারি অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে তালাবদ্ধ করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার মুসলিমা খাতুন নামে এক নারীর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য ক্লিনিকটিতে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়াই শুরু করা অস্ত্রোপচার চলাকালীন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অস্ত্রোপচার অসমাপ্ত রেখেই ক্লিনিক ত্যাগ করেন। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গায় স্থানান্তর করা হলে সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। রোগীর স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বৃহস্পতিবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে এবং আপাতত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র, চিকিৎসক ও জনবলের বৈধতা, সরঞ্জাম এবং সেবার মান যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শাহিন আলম বলেন, ওই ক্লিনিক অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার বিধি-বিধান লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।