শাহ আলম মন্টু \ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামের কৃষক চঞ্চল হোসেন মালচিং পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন। মাত্র ১২ শতক জমিতে করলার আবাদ করে তিনি ৬০ দিনের মধ্যে ১১ বার করলা সংগ্রহ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে তার ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার করলা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। জামজামি ইউনিয়নের পুরাতন পাঁচলিয়া কলমিগাড়ী মাঠে চঞ্চল হোসেনের সবুজে ঘেরা করলা ক্ষেত এখন স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা তার ক্ষেত পরিদর্শনে আসছেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষ সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। জানা গেছে, মৃত আজবের আলীর ছেলে চঞ্চল হোসেন চলতি মৌসুমে ১২ শতক জমিতে এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের ‘লিডার হাইব্রিড’ জাতের করলার আবাদ করেন। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় জমির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং গাছের সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি সময়মতো সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষেতে আশানুরূপ ফলন এসেছে। কৃষক চঞ্চল হোসেন জানান, প্রায় ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনি করলার আবাদ করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ভালো ফলন পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ৬৮২ কেজি করলা বিক্রি করে প্রায় ২৮ হাজার টাকা আয় করেছেন। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ করে করলার আবাদ করেছি। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত স্প্রে ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন পেয়েছি। ইতোমধ্যে ৬৮২ কেজি করলা বিক্রি করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছি। আমার বিশ্বাস, ১০০ দিনের মধ্যে মোট ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করতে পারবো।” তিনি আরও বলেন, “শুরুতে অনেকেই করলা চাষ নিয়ে সন্দেহ করলেও এখন আমার ক্ষেত দেখে অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সঠিক পরিচর্যা করলে করলা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।” এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গা ফিল্ড অফিসার আবু সাঈদ বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষের ফলে পানি সাশ্রয় হয় এবং গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। চঞ্চল হোসেন নিয়ম মেনে পরিচর্যা করায় খুব ভালো ফলন পাচ্ছেন। তার এই সফলতা এলাকার অন্যান্য কৃষকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ হয়ে থাকবে।” এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের দক্ষিণাঞ্চলের সেলস ম্যানেজার কৃষিবিদ রেজাউল করিম বলেন, “লিডার হাইব্রিড করলা একটি উচ্চ ফলনশীল ও বাজারজাতকরণের উপযোগী জাত। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা এই জাত থেকে অধিক উৎপাদন ও লাভ অর্জন করতে পারেন। চঞ্চল হোসেনের সফলতা প্রমাণ করে যে অল্প জমিতেও পরিকল্পিত চাষাবাদ করে উল্লেখযোগ্য আয় সম্ভব।” স্থানীয় কৃষকদের মতে, উন্নত জাতের বীজ, মালচিং প্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার কারণে সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। চঞ্চল হোসেনের করলা ক্ষেত সেই সম্ভাবনারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি। সবুজ লতায় ঝুলে থাকা শত শত করলা যেন জানান দিচ্ছে—পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে অল্প জমিও হতে পারে সাফল্যের সুবর্ণ ক্ষেত। আর সেই সফলতার গল্পই এখন ছড়িয়ে পড়ছে জামজামি ইউনিয়নের মাঠ থেকে মাঠে।
