নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পাতেলডাঙ্গি গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত একটি উপ-কারাগার আজও কোনো আসামির পদস্পর্শ পায়নি। ব্যবহারের অভাবে জরাজীর্ণ এই স্থাপনাটি এখন স্থানীয় মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এটি এলাকার জন্য বড় ধরনের সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করবে। আশির দশকে এরশাদ আমলে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই উপ-কারাগার। কিন্তু নির্মাণের চার দশক পেরিয়ে গেলেও কারাগারটি কখনোই কার্যকর হয়নি। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় খসে পড়ছে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা, চুরি হয়ে গেছে দরজা-জানালার অধিকাংশ উপকরণ। নির্জন পরিবেশের সুযোগে রাত নামলেই এখানে জড়ো হয় মাদকসেবীরা। স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানান, “বহু আগে জেলখানা হবে বলে শুনেছিলাম। কিন্তু তারপর আর কিছুই হয়নি।” আরেক বাসিন্দা বলেন, “এখানে শুধু একজন নাইট গার্ড থাকেন। বাকি সময়টা বখাটে ও নেশাখোরদের অবাধ বিচরণের জায়গা হয়ে গেছে।” স্থানীয়রা আরও জানান, এরশাদ আমলে নির্মিত এই স্থাপনাটি প্রায় চার যুগ ধরে একইভাবে পড়ে আছে। কোনো সংস্কার বা ব্যবহার হয়নি। ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময় তথ্য দিয়েছি। কিন্তু সংস্কার ও ব্যবহার উপর মহলের ব্যাপার।” খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ তাসনিম জাহান আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কারাগারটি চালু করা অথবা বিকল্প জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা করবো।” স্থানীয়দের দাবি, পরিত্যক্ত এই স্থাপনাটি যেন দ্রুত সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। অন্যথায় এটি ভবিষ্যতে মাদক ও সামাজিক অপরাধের বড় আস্তানায় পরিণত হতে পারে।
