নিজ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত কথিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক বডিগার্ড ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।
রোববার (২১ জুন) বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ সময় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে জিয়াউল আহসানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা মহাখালী এলাকায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে বিভিন্ন ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল।
সাক্ষ্যে তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র্যাব সদরদপ্তরে পরিবেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। জিয়াউল আহসান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর মধ্যে ফোনালাপের বিষয়েও তিনি ট্রাইব্যুনালে তথ্য দেন।
ইমরুল কায়েস আরও অভিযোগ করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর র্যাব হেডকোয়ার্টারের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করা হয়েছিল। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত হন।
জবানবন্দি শেষে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান ইমরুল কায়েস। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
