সম্ভাবনা থাকলেও ভোমরা বন্দরে রাজস্বে ধস

ঘাটতি প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা

মঙ্গলবার, জুলা ২৮, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি এটিকে কাস্টম হাউসে উন্নীত করা হয়েছে এবং গুঁড়াদুধ ছাড়া প্রায় সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতিও মিলেছে। তবে এত সুবিধা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ডলার সংকট, এলসি খোলার জটিলতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতির কারণে আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বন্দরের অন্যতম বড় সমস্যা। আন্তর্জাতিক মানের কার্গো শেড, পর্যাপ্ত ট্রাক টার্মিনাল, আধুনিক স্ক্যানার, প্রশস্ত সড়ক ও পণ্য পরীক্ষাগারের অভাবে বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, ব্যবসায় স্থবিরতা ও আর্থিক সংকটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্বে। অন্যদিকে কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন কৌশল ও ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্যবান্ধব নীতি এবং আর্থিক সংকট নিরসন করা গেলে ভোমরা স্থলবন্দর আবারও দেশের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।