বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর

মঙ্গলবার, জুলা ২৮, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সাফল্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকায় ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, তখন সরকারও নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, সহজ কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা, মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন সুযোগ এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে সহায়তা, লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং বন্দর, জ্বালানি ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, যা হবে শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী।