গত দেড় দশকে রাজনৈতিক ক্ষমতার ছায়াতলে কীভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের আমানত লুট করা হয়েছে, ক্রমেই তা প্রকাশ পাচ্ছে। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, সম্প্রতি আইএফআইসি ব্যাংকের বিশেষ নিরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকার বেনামি ও ভুয়া ঋণের চিত্র উঠে এসেছে। বলা বাহুল্য, এটিও দেশের ব্যাংক খাতকে ফোকলা করে দেওয়ার এক লোমহর্ষক দলিল। দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৩ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে যাওয়া এবং এর সিংহভাগ সাবেক সরকারের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকের বেনামি পকেটে চলে যাওয়া প্রমাণ করে, আমাদের আর্থিক খাতের সুরক্ষায় নিয়োজিত তদারকি ব্যবস্থা কতটা ভেঙে পড়েছিল। এই জালিয়াতির সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের মোহে অন্ধ হয়ে বছরের পর বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত অডিট দলও এই মহা-অনিয়ম আড়াল করে গেছে। বলা বাহুল্য, এ ধরনের ঘটনা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আমানতকারীদের আস্থা ধূলিসাৎ করার জন্য যথেষ্ট। এই ভয়ংকর সংকট থেকে উত্তরণে এবং দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকারকে অনতিবিলম্বে বহুমাত্রিক ও আপসহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, সালমান এফ রহমানসহ যেসকল প্রভাবশালী ব্যক্তি বেনামে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের দেশ-বিদেশে থাকা সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকটির যেসব শীর্ষ কর্মকর্তা ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য নিয়ম লঙ্ঘন করে এসব ঋণ অনুমোদন বা পুনঃতফসিল করেছেন, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব পরিদর্শক দল বিগত বছরগুলোয় অডিট করে এই জালিয়াতি আড়াল করেছে, তাদেরও সমান অপরাধে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় ও ফৌজদারি শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। শুধু আইএফআইসি ব্যাংক নয়, রাজনৈতিক প্রভাবে রুগ্ন হয়ে পড়া প্রতিটি ব্যাংকে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দ্বারা অনতিবিলম্বে ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করতে হবে। সরকারকে বুঝতে হবে, ব্যাংক খাত হলো দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি; আর এই খাত না বাঁচলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।