কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে সাউবান (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সিফাত (৫) নামের আরও এক শিশু আহত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল রবিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর হাসিমপুর ইকোপার্ক সংলগ্ন পদ্মানদীর কোলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাউবান খোকসার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে ও কুমারখালীর হাসিমপুর এলাকার আজিজুল শেখের নাতি। আর আহত সিফাত হাসিমপুরের জালাই সরদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু সাউবান পরিবারের সাথে ঢাকায় থাকে। শনিবার বিকেলে সে তাঁর মায়ের সাথে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। রবিবার স্বজনদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাউবান ও সিফাত খেলতে বের হয়। এরপর হাসিমপুর পদ্মানদীর কোলের পানিতে একজোড়া স্যান্ডেল ও সিফাতকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসিমপুর বাজারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে সাউবানকে না পেয়ে স্থানীয়রা ফের পদ্মানদীর কোলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরে একই স্থান থেকে সাউবানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুপুরে হাসিমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের বারান্দায় রাখা রয়েছে শিশু সাউবানের মরদেহ। বাড়ির আঙিনার এককোণে বসে আদরের সন্তান হারিয়ে আহাজারি করছেন মা গোলাপী খাতুন। তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনরা। উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। এ সময় বিলাপ করতে করতে মা গোলাপী খাতুন বলেন, ‘ কালকে ( শনিবার) বিকালে আমি বাড়ি আইছিরে। কি কামে আমি আলামরে? আমি ক্যা বাড়ি আলামরে? ও আল্লাহ, আমার সোনা একসাথে বসে আম খাইছিরে। এরপর আমি ডিম ভাঁজতে গিছিরে। এরমাঝেও আমার বেটা বাড়া গেছেরে।’ সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাকরুদ্ধ শিশু সিফাত। তাকে গোসল করিয়ে শরীরে তেল লাগানো হচ্ছে। নাম ধরে ডাকলেও সারা দিচ্ছে না সে। সেখানেও উৎসুক জনতার ভিড়। এ সময় সিফাতের মা শেফালী খাতুন বলেন, সকলের অজান্তে খেলতে গিয়েছিল ওরা ( সিফাত – সাউবান)। তবে কিভাবে নদীকূলে গেল বা পানিতে পড়ল? তা জানিনা। আল্লাহ ছেলেকে বাঁচায় দিছেন। তবে আতঙ্কে এখন পর্যন্ত কারো সাথে কথা একটি কথাও বলিনি। জানা গেছে, হাসিমপুর ইকোপার্কের বাঁধ এলাকায় ঘর নির্মাণের কাজ করছেন শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, একটি ছেলে এসে খবর দেয় পানিতে একজন ভেসে আছে। একজোড়া স্যান্ডেলও আছে। খবর শুনে দৌড়ে এসে একজনকে( সিফাত) তুলে মাথায় তুলে ঘুরিয়ে ও মুখে মুখ লাগিয়ে পানি বের করে বাজারের ওপর নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে শুনি আরও এক শিশুকে পাওয়া যাচ্ছেনা। পরে আবার পানিতে নেমে তাকেও ( সাউবান) পাওয়া যায়। তাঁর ভাষ্য, যদি দুই জোড়া স্যান্ডেল থাকত। তাহলে প্রথমেই দুইজনকে উদ্ধার করা যেত। হয়তো দেরি হওয়ায় একজনকে বাঁচানো যায়নি। কুমারখালী থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে নদীরকোলের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরেক শিশু বাড়িতে চিকিৎসাধীন। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
