অবৈধভাবে বালু লুটপাট রোধে ভেড়ামারায় তড়িয়া মহাল বন্ধে প্রশাসনের লাল পতাকা;  এলাকাবাসীর স্বস্তি

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

?মাহমুদুল হাসান চন্দন \ ?কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বহুল আলোচিত সরকারি ইজারাকৃত ‘তড়িয়া বালুমহাল’ আকস্মিক বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বালি কাটা ঠেকাতে এবং অবৈধভাবে বালু লুটপাট রোধে পুরো মহাল এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়ে সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বালি কাটা বন্ধ হওয়ায় একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরেছে নদী তীরবর্তী ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মাঝে। ?স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হলেও তড়িয়া বালুমহালে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন ও নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে বালি কাটার অভিযোগ উঠছিল। এর প্রেক্ষিতেই কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে বালুমহালের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করে। ?এই বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং নদীর গতিপথ ও তীরবর্তী বাঁধের সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বালি মহালের ইজারা থাকলেও আইন অমান্য করে নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে কিংবা গভীর ড্রেজার বা ফিলিং মেশিন বসিয়ে নদীর ক্ষতি করা হলে প্রশাসন চুপ থাকবে না। কোনো চক্র যেন সরকারি রাজস্ব ও পরিবেশের ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্যই লাল পতাকা টাঙিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ?অভিযান প্রসঙ্গে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত বলেন, “প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তড়িয়া মহলে বালি কাটার ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম ও সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগ আসায় এবং কেউ যেন অবৈধভাবে পালিয়ে বা রাতে বালি লুট করতে না পারে, সেজন্য লাল পতাকা দিয়ে এলাকাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ?একই সুর মেলালেন ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার। তিনি জানান, সরকারি খাস জমি ও নদীর সঠিক সীমানা নির্ধারণের জন্য সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। অনেক সময় ইজারাদারের আড়ালে অসাধু চক্র লিজের বাইরে গিয়ে কৃষিজমি বা নদীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে বালি কেটে নিয়ে যায়। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মিত মনিটরিং জারি থাকবে। স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, যত্রতত্র বালি কাটার কারণে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। লাল পতাকা দেওয়ায় তারা আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন এবং এখানে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। ?বর্তমানে তড়িয়া বালুমহাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে জীবিকা রক্ষার তাগিদে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে।